26 February 2025 , 11:34:45 প্রিন্ট সংস্করণ
এম এ হোসেন, কুষ্টিয়াঃ কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার পৌর শহরস্হ এলঙ্গী বড় মন্দির পাড়ার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান খান আলী (২০) ও আসাদুজ্জামান খান সামাদ পাখি ( ৪৫ ) সম্পর্কে বাপ-বেটা।
তাদের কর্মকান্ড গিরিগিটীর মতো। ক্ষনে ক্ষনে রঙ রুপ এবং আদর্শিক বাবা পরিবর্তন করেন। ২০০১ সালে বিএনপির শাসনামলে সোনার কাঠির ছোঁয়ায় হয়ে যান পৌর বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক। অথচ এর আগে বিএনপি কোন পর্যায়ের প্রাথমিক সদস্যও ছিলেন না। সেসময় তার বিষয়ে নানান গুঞ্জন শুনা যায়।
কেউ কেউ বলেন, মার্ডার মামলার আসামি পাখিকে দলে ভিড়িয়ে তত্কালীন বিএনপির সাংসদ সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি পৌর শহরে তার অবস্থান পরিপক্ব করেন। আবার কেউকেউ বলেন, তার কাছে বিএনপির পৌর নেতৃবৃন্দ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পদ বিক্রি করেছিলেন।
বিএনপি সরকার ২০০৬ সালে ক্ষমতা হারালে ১/১১ সময় আসাদুজ্জামান খান সামাদ পাখি নিজ দল বিএনপির এন্ট্রি নেতাকর্মীদের নামে সেনা বাহিনীর ক্যাম্পে মিথ্যা নানান অভিযোগ করেন। যার ফলে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী হেনেস্তার শিকার হন। নানান জনের কাছে সেসময় চাঁদাবাজি করেন সেনাবাহিনীর ভয় দেখিয়ে।
২০০৮ সালে আঃলীগ ক্ষমতায় এলে নির্যাতিত মানুষজন তার প্রতিরোধ করলে ভয়ে চাঁদাবাজ পাখি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চলে আসেন।
এসময়ও তিনি এলাকায় এবং রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সমানতালে চাঁদাবাজির চালিয়ে যান, গড়ে তুলেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সর্বশেষ ২০১৮ সালে আঃলীগ পূনরায় ক্ষমতা গ্রহণ করলে এলাকায় তারা চাঁদাবাজি আরো সক্রিয় করার জন্য তার ছেলে থানা ছাত্রলীগের নেতা আসাদুজ্জামান খান আলীকে মাঠে সক্রিয় ভাবে নামান।
উল্লেখ্য যে, রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আঃলীগের সাথে মিলে যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান নিখিলের সহযোগী হয়ে নানান অপকর্ম করেন পাখি। শুনা যায়, আঃলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মির্জা নানকের পালকপুত্র মোহাম্মাদপুর আদাবর অঞ্চলের ত্রাস রাজিব গ্রুপের সাথেও সখ্যতা ছিল এই পাখির। এছাড়াও আঃলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হকের সাথেও তার সখ্যতা ছিল। তার নাম ভাঙ্গিয়ে কুমারখালীতে চাঁদাবাজি করেছে সে।
একটা সময় পাখির বিরুদ্ধে জাতীয় দৈনিকে একাধিক নিউজ হলে তিনি ভয়ে দেশ ছেড়ে ইউরোপে চলে যান।

অন্যদিকে, জুলাই বিপ্লবের সময় হঠাৎ টাইমলাইনে চলে আসে পাখির ছেলে আলী। আলী সমন্বয়ক পরিচয়ে এলাকায় ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলেছেন। সবসময় ৭/৮ হোন্ডা নিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পৌর শহরের মহল্লায় মহল্লায় মোহড়া দিয়ে আসছে। এতে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
যার পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ ই ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার দুপুরে আলী-পাখির বাড়ীতে বিক্ষুব্ধ জনতা হানা দেয়। এসময় বাপ-বেটা সহ পুরুষ সদস্যরা পালিয়ে যায়। এসময় আলী-পাখির বাড়ীতে বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর চালান।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকার পরিবেশ উত্তপ্ত ছিল। বিক্ষুব্ধ জনতা আলী- পাখির বিচারের দাবীতে আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ার দিয়েছেন।

















