জাতীয়

রাহুর কবলে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)

স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি ১১৫টি উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত এবং ধান উৎপাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট ২৫০ এর অধিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে ১৮ কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য চালের যোগানে অনবদ্য ভূমিকা পালন করছে।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিজয়ের পর একটি রাজনৈতিক দলের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারিগণ ক্ষমতা ও দখলদারিত্বের বাণিজ্য শুরু করেছে ব্রিতে। এতে ব্রির গবেষণা কার্যক্রমে্র পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে এবং গবেষণায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে ।

 

এ অবস্থা চলতে থাকলে প্রতিষ্ঠানটি অচিরেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হবে বলে ব্রির সাধারণ বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারি এবং শ্রমিকবৃন্দ আশংকা করছে। অতীতে সরকারের পট পরিবর্তন হলেও কখনোই প্রতিষ্ঠানটি এমন নাজুক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় নাই।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিজয়ের পর মহাপরিচালক পদে রুটিন দায়িত্ব পেয়েছেন পরিচালক গবেষণা ড. মো. খালেকুজ্জামান যিনি ব্রির মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালনের জন্য অযোগ্য ও একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি। আওয়ামী লীগ সরকারের বদান্যতায় জনাব মেহের আফরোজ চুমকি (আওয়ামীলীগ সরকারের তৎকালীন সংসদ সদস্য) ও জনাব নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন (তৎকালীন সংসদ সদস্য ও শিল্প মন্ত্রী) এর সুপারিশে তিনি ২০২১ সালে পরিচালক গবেষণা পদে চলতি দায়িত্ব পেয়েছিলেন।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিজয়ের পর ড. খালেকুজ্জামান একটি রাজনৈতিক দলের উশৃঙ্খল বিজ্ঞানী ও কর্মচারী ড. মো. আনোয়ারুল হক, প্রধান, শস্যমান ও পুষ্টি বিভাগ এবং ড. হাবিবুর রহমান মুকুল-এর পৃষ্ঠপোষকতায় নানাবিদ অন্যায় কাজের ফলে ব্রি এখন কার্যত অচল-যার প্রভাব পড়বে আগামীদিনের দেশের খাদ্য নিরাপত্তায়।

 

ড. হাবিবুর রহমান মুকুল একজন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। অথচ তিনি প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, পরিচালক, এমনকি মহাপরিচালক মহোদয় পর্যন্ত তার উগ্র আচর এবং হুমকী কাছে জিম্মি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সাথে সরাসরি যোগাযোগ আছে বলে প্রচার করেন। তার সকল অন্যায় কাজের সমর্থক ড. মো. আনোয়ারুল হক।

 

অন্যায়ভাবে বদলি, পদায়ন, অযোগ্য লোকদের দিয়ে কমিটি গঠন, হুমকি, বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং ব্রিতে চলমান বিভিন্ন কন্সট্রাক্সন কাজের ঠিকাদারদের নিকট থেকে চাঁদা আদায়, টাকার বিনিমিয়ে বদলি এবং বদলি বাতিল, ব্রির প্রাথমিক এবং উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকদের হুমকী প্রদান, মুকুর তার স্ত্রীকে প্রধান শিক্ষক পদে বসানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মহাপরিচালক রুটিন দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে বিজ্ঞানীদের বদলী করছেন। বদলীর জন্য রাজনৈতিক দলের অনুসারীরা যে তালিকা তৈরি করেছে তার প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে কিছু বদলী করা হয়। তালিকা অনুসারে অবশিষ্ট বিজ্ঞানী/কর্মকর্তা/কর্মচারিদের ধাপে ধাপে বদলী করা হবে বলে শোনা যায়। রাজনৈতিক দলের অনুসারী বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারিরা তাদের পদোন্নতি, পদ পদবির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে যার কোন ন্যায়সংগত ভিত্তি নেই। মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) এর বরাতে বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালকদের পদচ্যুত করার হুমকি দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুজন উপ প্রকল্প পরিচালককে আঞ্চলিক কার্যালয়ে বদলী করা হয়েছে। ব্রির বিভিন্ন কমিটি পরিবর্তনের জন্য মহাপরিচালক ও পরিচালক প্রশাসন ড. মো. আনোয়ারুল হক-এর দায়িত্বে সকল কমিটিতে শুধুমাত্র তার অনুসৃত রাজনৈতিক দলের সদস্যদের মাধ্যমে কমিটির তৈরি করেন। জামায়াতে ইসলামীর অনুসারীদেরকেও বঞ্চিত করা হয়। আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে এসকল ঘৃণ্য, গর্হিত কার্যক্রম চলতে থাকলে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি অচিরেই মুখ থুবড়ে পড়বে যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের জন্য যে বিপ্লব সাধিত হল তা বিফল হতে পারে না বলে মনে করে ব্রির সাধারণ বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারি ও শ্রমিকবৃন্দ। সরকারি অফিস কোন রাজনীতির স্থান হতে পারে না। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য আশু ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক বলে মনে করে সকলেই।

 

আরও খবর

Sponsered content