বিনোদন

গোবিন্দকে খুঁজছে পুলিশ, হাজার কোটির কেলেঙ্কারি

গোবিন্দকে খুঁজছে পুলিশ, হাজার কোটির কেলেঙ্কারি

জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের পর এবার প্রতারণা মামলায় নাম জড়ালো বলিউডের ‘হিরো নম্বর ১’ গোবিন্দার। ১ হাজার কোটির অনলাইন পঞ্জি কেলেঙ্কারিতে ওড়িশা পুলিশের আর্থিক অপরাধ দমন শাখা বা ইওডব্লিউর জেরা মুখে পড়তে হবে অভিনেতাকে।

 

তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশে ক্রিপ্টো কারন্সিতে বিনিয়োগের আড়ালে কেলেঙ্কারির জাল বিছিয়েছে সোলার টেকনো অ্যালায়েন্স নামে এক সংস্থা।

 

আর্থিক অপরাধ দমন শাখার কর্মকর্তা জানান, সংস্থার বেশ কয়েকটি প্রচারমূলক ভিডিওতে অংশ নিয়েছেন গোবিন্দ। ভারতীয় গণমাধ্যমে অফিসার জে এন পঙ্কজ জানিয়েছেন, শিগগিরই আমরা মুম্বাইয়ে একটি টিম পাঠাব গোবিন্দকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। জুলাইয়ে গোয়ায় অনুষ্ঠিত সোলার টেকনো অ্যালায়েন্সের পার্টিতে যোগ দেন গোবিন্দ, সংস্থার হয়ে প্রচারও করেন।

 

যদিও এই আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলায় গোবিন্দ এখনও পর্যন্ত সন্দেহভাজন বা অভিযুক্ত কোনোটাই নন বলে স্পষ্ট করেছে ওড়িশা পুলিশের অর্থনৈতিক দমন শাখা। এই মুহূর্তে তদন্তের স্বার্থে গোবিন্দকে জেরা করবে পুলিশ। এরপর এই কেলেঙ্কারির ক্ষেত্রে তার সঠিক ভূমিকা স্পষ্টভাবে জানা যাবে।

 

জানানো হয়েছে, যদি গোবিন্দর সঙ্গে সেই সংস্থার চুক্তিতে উল্লেখ থাকে যে শুধুমাত্র সংস্থার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার হিসাবেই চুক্তিবদ্ধ গোবিন্দা, তাহলে তাকে রাজসাক্ষী করা হবে। যদিও তদন্তের পর জানা যায়, সংস্থার সঙ্গে গভীর যোগসূত্র রয়েছে গোবিন্দর, তাহলে অন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ভদ্রক, বালাশোর, ভুবনেশ্বর, ময়ূরভঞ্জ-সহ ওড়িশার একাধিক এলাকা থেকে কোটি কোটি টাকা লুট করেছে সোলার টেকনো অ্যালায়েন্স। দশ হাজার মানুষের কাছ থেকে ৩০ কোটি টাকা তুলেছিল সংস্থাটি।

 

তবে শুধু ওড়িশা নয়, বিহার, উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, রাজস্থান, হরিয়ানা, দিল্লি, ঝাড়খন্ড এবং ভারতের একাধিক রাজ্যে বহু মানুষ তাদের জীবনের সঞ্চয় খুইয়েছে এই ভুয়া সংস্থায় বিনিয়োগ করে। আর সেই বিনিয়োগে উৎসাহ জুগিয়েছে যে বিজ্ঞাপন, তার মুখ গোবিন্দ।

 

ইতিমধ্যেই এই মামলায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে ওড়িশা পুলিশ। এদেশে এই জালিয়াত সংস্থার প্রধান গুরতেজ সিং সিধু এবং ওড়িশার প্রধান নিরোদ দাসকে গত ৭ আগস্ট গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

এই সংস্থার প্রধান ডেভিড গেজ হাঙ্গেরির নাগরিক। তার বিরুদ্ধেও লুকআউট সার্কুলার জারি করা হয়েছে ওড়িশা পুলিশের তরফে। এ বিষয় নিয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি গোবিন্দ।